পিত্তথলির পাথর (Gallstones) আমাদের দেশে একটি অত্যন্ত সাধারণ পেটের রোগ। পিত্তরসে কোলেস্টেরল বা রঞ্জক পদার্থ জমে জমে পিত্তথলিতে পাথর তৈরি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি ব্যথাহীন থাকলেও যেকোনো সময় এটি তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার কারণ হতে পারে।

পিত্তথলিতে পাথরের প্রধান লক্ষণসমূহ

  • পেটের ডানদিকের উপরিভাগে তীব্র ব্যথা: বিশেষ করে চর্বিযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার ১-২ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
  • পিঠ বা ডান কাঁধে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: পেটের উপরিভাগ থেকে ব্যথা ডানদিকের কোমর বা কাঁধের দিকে যায়।
  • বমি ভাব, বমি ও বদহজম: খাবার সহজে হজম না হওয়া, পেট ফাঁপা এবং নিয়মিত বমি বমি ভাব।
  • জ্বর ও জন্ডিস: পাথর পিত্তনালীতে (Common Bile Duct) নেমে আটকে গেলে অবস্ট্রাক্টিভ জন্ডিস ও ইনফেকশন দেখা দেয়।

ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি কেন একমাত্র স্থায়ী সমাধান?

ওষুধ দিয়ে পিত্তথলির পাথর চিরতরে গলানো সম্ভব নয় এবং ওষুধ বন্ধ করলে পুনরায় পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি (Laparoscopic Cholecystectomy) অর্থাৎ ফুটো করে গলব্লাডার অপসারণই স্থায়ী ও নিরাপদ সমাধান।

ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশনের সুবিধাসমূহ

  • পেটে বড় কোনো দাগ থাকে না (মাত্র ৩-৪টি ছোট ফুটো করা হয়)
  • অপারেশন পরবর্তী ব্যথা অত্যন্ত কম
  • সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগী বাড়ি ফিরে যেতে পারেন
  • ৫-৭ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফেরা সম্ভব